অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ২৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ ঘটনাটিকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ইহুদি ধর্মীয় উৎসব হানুক্কা উপলক্ষে বন্ডাই বিচে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হামলাটি ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, ওই সময় সেখানে এক হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালেই আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু হলে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছুটোছুটিতে পরিণত হয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স জানান, হামলায় অন্তত দুইজন বন্দুকধারী জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। তৃতীয় কোনো হামলাকারী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে।
প্রিমিয়ার মিন্সের ভাষায়, “হানুক্কার প্রথম দিনে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। যে রাতটি শান্তি ও আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, তা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে চিৎকার ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এক ব্যক্তি জানান, তিনি বহু মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন।
হামলার পর বন্ডাই বিচ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। সৈকত এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং সাধারণ মানুষকে দ্রুত সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কা নেই।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে “ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জরুরি সেবাকর্মীরা আহতদের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “জঘন্য সন্ত্রাসী আক্রমণ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিরোধী বিদ্বেষ বৃদ্ধির ফলেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন, একটি আনন্দঘন ধর্মীয় উৎসবকে এভাবে রক্তাক্ত করে তোলা তাদের জন্য গভীর শোক ও আতঙ্কের বিষয়।
বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র বন্ডাই বিচে এমন হামলা অস্ট্রেলিয়াজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কঠোর অস্ত্র আইনের দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ায় এই ধরনের গণহামলা বিরল হলেও, ঘটনাটি দেশটির ইতিহাসে একটি গভীর ও বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
