কক্সবাজারের কলাতলীতে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত আরও একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মৃত আব্দুর রহিম (৩৯) কলাতলী এলাকার বাসিন্দা ও দুর্ঘটনা কবলিত এন. আলম ফিলিং স্টেশনের পার্শ্ববর্তী গ্যারেজের মালিক।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দগ্ধ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।মৃতের ছোট ভাই নুর আহমদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আব্দুর রহিমকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চমেকে প্রেরণ করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার ঢাকা নেওয়া হলে চার দিন পর তিনি মারা যান।তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের ৭০ শতাংশ শরীর পুড়ে গেছে, চিকিৎসকরা তাকে বাচানোর সব চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া গ্যারেজে থাকা ৪টি জিপসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে। এত বড় ক্ষতি আমাদের পরিবারে অন্ধকার নামিয়ে আনল। মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে কক্সবাজারে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর আগে,রবিবার (১ মার্চ) জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মৃত্যুবরণ করেন আবু তাহের নামে আরও একজন। মঙ্গলবার সকালে কলাতলী দাখিল মাদরাসায় জানাজার পর স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা: এদিকে এন. আলম ফিলিং স্টেশনের মালিক নুরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাম্প পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমোদনপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরক আইন-১৮৮৪ এর বিধি ৫ এর ৩(ক) ও ৩(খ), এলপিজি বিধিমালা ২০০৪-এর বিধি ১১১ এবং পেনাল কোড-১৮৬০ এর ৩০৪ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য : ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, গত ১ মার্চ রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।আসামি নুরুল আলম প্রকাশ এন আলমকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে গ্যাস লিকেজ হয়ে এন. আলম ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টা পর মধ্যরাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এ ঘটনায় দগ্ধ হয় ১৬ জন, বাড়ি-গাড়ি পুড়ে গিয়ে প্রায় চার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
