জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে দেশে ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং নিপীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমূলে উৎপাটন করা হবে।
রোববার বাংলাদেশ টিভিতে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লব ছিল গণবিদ্রোহ, যা বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিগ্রস্ত পুরোনো ব্যবস্থাকে ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু পুরোনো সুবিধাভোগীরা আবারও ক্ষমতায় ফিরে সেই দুর্নীতিগ্রস্ত কাঠামো ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমেছে।”
নাহিদ ইসলামের দাবি, বিগত শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার (৩০ লাখ কোটি টাকা) লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা লুটপাট হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি পদক্ষেপ নেব এবং দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী, সুবিধাভোগী আমলা ও আত্মীয়-স্বজনদের আইন ও বিচারের আওতায় আনা হবে।”
তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ঘাটতি ও ইন্ডিয়াকে কেন্দ্র করে পরিচালিত অনতিস্বাধীন নীতির সমালোচনা করে বলেন, বিএসএফের হাত ধরে শত শত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হলেও তাৎক্ষণিক সাড়া দেওয়া হয়নি। নাহিদ ইসলাম বলেন, “এনসিপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ঘাটতি কমানো হবে এবং বিদেশের ওপর অতি নির্ভরশীলতা দূর করা হবে।”
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুরক্ষা এবং সহজ সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “পৃথিবীর সব প্রান্তে নতুন বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা হবে এবং কূটনীতিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। প্রবাসীরা যাতে কোথাও কোনোভাবে হেনস্তার শিকার না হন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায্যতা ও সহযোগিতা।”
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন, জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতা নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও নাগরিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
