নেপালে আলোচিত জেন জেড আন্দোলন দমন-পীড়নের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাক-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকালে কাঠমান্ডুর গুণ্ডু এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই তাকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই দিন সকালে ভক্তপুরের কুটুঞ্জে এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রমেশ লেখাককে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতিশ্রুতি—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।
গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেন জেড আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেপালের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আটক করা হলো। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাবেক সরকারপ্রধানদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও ফৌজদারি মামলায় এভাবে গ্রেপ্তারের নজির নেই।
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেখাক এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চন্দ্রকুবের খাপুং-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ফৌজদারি আইনের ১৮২ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ধারায় ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’-এর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৌরী বাহাদুর কার্কি নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় (নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট অংশ ছাড়া)।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর আইন সচিব পরাশ্বর ধুঙ্গানা রাতভর কাজ করে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
সরকারের এই পদক্ষেপকে নেপালের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য হিমালয় টাইমস
