দেশে ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ‘পরিবেশ পুলিশ ইউনিট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রস্তাবটি শিগগিরই সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হতে পারে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, আসন্ন পুলিশ সপ্তাহে এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ইউনিটের লক্ষ্য হবে নদী দখল, শিল্পদূষণ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অপরাধের বিস্তৃতি ও জটিলতা এতটাই বেড়েছে যে প্রচলিত পুলিশ ব্যবস্থার পক্ষে তা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন এই ইউনিট গঠিত হলে পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন জোরদার হবে এবং অপরাধ দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউনিটটি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নদী দূষণ, অবৈধ পাহাড় কাটা ও বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্ট অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের বিশেষায়িত বাহিনী এখন সময়ের দাবি। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় পরিবেশ খাতে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দেশে মোট ১ হাজার ৪১৫টি নদীর মধ্যে ৮০০টির বেশি দখল ও দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদী ও খাল দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। পাশাপাশি অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সরাসরি জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং বায়ুদূষণও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইটভাটার দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। দেশে ৭ হাজারের বেশি ইটভাটার একটি বড় অংশ পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
আইনজীবী ও নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, পরিবেশ সংরক্ষণে বিদ্যমান আইন থাকলেও প্রয়োগের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করলে পরিবেশ সুরক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে, যা অবৈধ বন উজাড়, দূষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
