পাকিস্তানে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে আজীবন দায়মুক্তি

আইন সংশোধনের ফলে ‘চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ’ উপাধি পরিবর্তন করে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ করা হয়েছে। এতে সেনাপ্রধানের মেয়াদ নতুনভাবে গণনা হবে এবং একইসঙ্গে মুনির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীরও তত্ত্বাবধানে থাকবেন। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পাওয়ায় এগুলো এখন সংবিধানের অংশ।

2 Min Read
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নতুন ক্ষমতা প্রদান এবং তাকে গ্রেপ্তার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিলটিতে স্বাক্ষর করায় দেশটির ২৭তম সংবিধান সংশোধন আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতগুলোর কাঠামো ও কার্যপদ্ধতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

পরিবর্তনের সমর্থকদের দাবি, এতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো পাবে এবং বিচারব্যবস্থায় মামলার জট কমাতে সুবিধা হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য সামরিক বাহিনীর দিকে আরও ঝুঁকিয়ে দেবে।

পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জারদারি শনিবার আরও তিনটি সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করেছেন পাকিস্তান আর্মি (সংশোধন) বিল ২০২৫, পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (সংশোধন) বিল ২০২৫ এবং পাকিস্তান নেভি (সংশোধন) বিল ২০২৫। এগুলো নতুন সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত।

আইন সংশোধনের ফলে ‘চিফ অব দ্য আর্মি স্টাফ’ উপাধি পরিবর্তন করে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ করা হয়েছে। এতে সেনাপ্রধানের মেয়াদ নতুনভাবে গণনা হবে এবং একইসঙ্গে মুনির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীরও তত্ত্বাবধানে থাকবেন। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পাওয়ায় এগুলো এখন সংবিধানের অংশ।

আসিম মুনিরের ফিল্ড মার্শাল পদবী ও সামরিক পোশাকের ব্যবহার আজীবনের জন্য বহাল থাকবে। অবসরের পরও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট চাইলে তাকে দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে মুনিরকে অবসর-পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব দেওয়ার পথ তৈরি হলো।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে সংস্কার আনতেই এসব পরিবর্তন করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা এপিপিকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা মোকাবিলায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করাই এ পরিবর্তনের লক্ষ্য।

তবে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মুনিজায়ে জাহাঙ্গীর মনে করেন, এসব পরিবর্তন বেসামরিক ও সামরিক কাঠামোর মধ্যকার ভারসাম্য আরও নষ্ট করবে। তার ভাষায়, এমন সময় ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যখন তাদের কার্যক্রম আরও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল।

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী বহু দশক ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সময় সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষমতা দখল করেছে তারা, আর অনেক সময় পর্দার আড়ালে থেকেও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *