ভার্চুয়াল ‘আইডিয়াল’ দম্পতি সুষমা রেজা ও কুশালের বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা

ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সাইদুল আশরাফ কুশাল মানসিক স্বাস্থ্য, দাম্পত্য জীবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। তাঁরা যৌথভাবে ‘লাইফ স্প্রিং’ (LifeSpring) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার গল্পের কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকের কাছে তাঁরা ‘আইডিয়াল কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিউজনেক্সট অনলাইন :

2 Min Read
ডা. সাইদুল আশরাফ কুশাল ও ডা. সুষমা রেজা, ছবি - সংগৃহীত।

মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সাইদুল আশরাফ কুশাল তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান ডা. সুষমা রেজা।

ফেসবুক পোস্টে স্বামী ডা. কুশালকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেচিন্তে এবং আত্মসমালোচনার পর তাঁরা দুজন পারস্পরিক সম্মতিতে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খবরটি অন্য কোনো সূত্রে নয়, নিজেদের কাছ থেকেই শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানুন—এ কারণেই প্রকাশ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সুষমা রেজা বলেন, এই সংবাদ অনেকের জন্য কষ্ট, বিস্ময় কিংবা নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে জীবনের নতুন অধ্যায়ে তাঁরা সবার দোয়া ও শুভকামনা প্রত্যাশা করছেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, খুব অল্প বয়সে তাঁদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়েছিল। প্রায় দুই দশকের সেই দাম্পত্য জীবনে তাঁরা একটি পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় হতে দেখেছেন এবং অসংখ্য সুখ-দুঃখ, অর্জন ও সংগ্রামের সাক্ষী হয়েছেন। সেই স্মৃতিগুলো তাঁদের জীবনের মূল্যবান অংশ হয়ে থাকবে।

ডা. সুষমা লেখেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুজনের ব্যক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কেও পড়েছে। একপর্যায়ে তাঁরা উপলব্ধি করেন, সম্পর্কটি আর আগের অবস্থানে নেই। তাই পরস্পরের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াকে সবচেয়ে সম্মানজনক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যেকোনো সম্পর্কের মতো তাঁদের সম্পর্কেও আনন্দ, সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা ও আশীর্বাদ—সবই ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তাঁদের জীবনের যেসব মুহূর্ত দেখেছেন, সেগুলো নিখুঁত কোনো সম্পর্কের ছবি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নয়; বরং জীবনের বাস্তব ও আন্তরিক মুহূর্তগুলোই তাঁরা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিষয় দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে উল্লেখ করে তিনি অনুরোধ জানান, তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে যেন অনুমান, গুজব বা অপ্রয়োজনীয় বিচার-বিশ্লেষণ না করা হয়। প্রায় ২০ বছরের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি তাঁরা পরস্পরের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং শান্ত গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই টানছেন বলে জানান তিনি।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *