কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ৪৩টি দানবাক্স খুলে এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পাওয়া গেছে। প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা ধরে গণনা শেষে দানবাক্সগুলো থেকে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রূপার অলংকারও পাওয়া গেছে।
এর আগে সকাল ৭টার দিকে মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে বস্তাভর্তি টাকা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গণনার কাজ শুরু হয়। টানা প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা ধরে চলে গণনা।
গণনার কাজে অংশ নেন পাগলা মসজিদসংলগ্ন মাদ্রাসার ১০৬ জন এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ৩০০ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের পাশাপাশি মসজিদের ৩৫ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ১৯ জন কর্মচারী, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
নগদ অর্থের পাশাপাশি প্রতিদিন মসজিদে মানত হিসেবে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, কবুতর, দুধ ও ডিমও দান করা হয়। এসব প্রাণী ও সামগ্রী প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয় এবং বিক্রির অর্থ পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, আন্তরিক নিয়তে এখানে দান করলে আল্লাহ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ মসজিদটিতে দান করতে আসেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও এ মসজিদের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
