বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নেবে ইরাক

একসময় বাংলাদেশ থেকে নিয়মিতভাবে কর্মী যেত ইরাকে, কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে কার্যত বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশি শ্রমবাজার। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৬ হাজার ২৪ জন কর্মী ইরাকে গেছেন।

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নেবে ইরাক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের মধ্যে অনুষ্ঠিত যৌথ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে দেশটি। বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীরা ইরাকে যাওয়ার আগে কর্মসংস্থান চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যাবে। একই সঙ্গে ইরাকের কোন কোন খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সে তথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক এবং ইরাকের পক্ষে দেশটির মিডিয়া, আরব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক কাজিম আব্দুর রেজা খাইয়ুন আত-ওয়ানি স্বাক্ষর করেন।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন, ইরাকে দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী প্রেরণের সম্ভাবনা এবং সেখানে অবস্থানরত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ‘রেকর্ড অব ডিসকাশন’ নামে একটি দলিলেও স্বাক্ষর হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—

  • ইরাক সরকার বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী ভিসা প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা করবে।
  • ইরাকি নিয়োগকর্তা প্রদত্ত চাহিদাপত্র বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সত্যায়িত করে কর্মী নিয়োগ করা হবে, যাতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হয়।
  • ইরাকে কর্মরত অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে ইরাকি পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাদের নিয়মিত করতে ইরাক সরকারের কাছে আবেদন করবে।
  • বাংলাদেশি কর্মীদের ইরাকে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে যৌথ কমিটি বছরে অন্তত একবার বৈঠক করবে।

বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ইরাকি প্রতিনিধিদল প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

একসময় বাংলাদেশ থেকে নিয়মিতভাবে কর্মী যেত ইরাকে, কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে কার্যত বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশি শ্রমবাজার। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৬ হাজার ২৪ জন কর্মী ইরাকে গেছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৯ হাজার ৫৬৭ জন বাংলাদেশি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বছর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ২৬৬-এ। ২০২০ সালে কোনো বাংলাদেশিই ইরাকে যেতে পারেননি। এরপর থেকে প্রতি বছরই সংখ্যাটা ছিল হাতে গোনা।

নতুন এই চুক্তির ফলে প্রায় পাঁচ বছর পর আবারও ইরাকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *