বিচার ছাড়াই ৩০ বছর কারাভোগ কনু মিয়ার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

2 Min Read

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রামের মানসিক ভারসাম্যহীন কনু মিয়া (৬০) অবশেষে দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিচার শেষ হওয়ার আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগের দিন, সোমবার (১৪ জুলাই) হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম তার জামিন মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের ২৫ মে কনু মিয়া আচমকা উত্তেজিত হয়ে কোদাল দিয়ে তার মাকে আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেয় এবং পরে তার ছোট ভাই মনু মিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিচার চলাকালীন কনু মিয়ার মানসিক অবস্থার আরও অবনতি হলে ২০০৩ সালে আদালত আদেশ দেন তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এরপর থেকেই কনু মিয়া কারাগারে আটক অবস্থায় ছিলেন।

প্রথমদিকে পরিবার-পরিজনের কেউ কেউ তাকে দেখতে এলেও পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একসময় পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন, তিনি আর বেঁচে নেই।

হবিগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মুহম্মাদ আব্বাছ উদ্দিন এই অব্যাহত বন্দিদশার বিষয়টি জানতে পেরে উদ্যোগ নেন।

তিনি মামলার বাদী মনু মিয়াসহ স্বজনদের খুঁজে বের করে তাদের সম্মতি নিয়ে কনু মিয়ার পক্ষে জামিন আবেদন করেন।

হবিগঞ্জের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিদ বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক সাফল্য। দীর্ঘ ৩০ বছর পর হলেও কনু মিয়া মুক্তি পেয়েছেন, আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

কনু মিয়ার বড় ভাই মনু মিয়া বলেন, আমার ভাই পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন। এত বছর পর বাড়ি ফিরে সে আমাদের পরিবারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়েছে।

- Advertisement -

এই ঘটনায় ন্যায়বিচার ও মানবিক সহানুভূতির গুরুত্ব আবারও আলোচনায় এসেছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *