বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। এটিকে দেশের সাইবার অপরাধ দমন কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই (মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ)–এর মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করা হয়। ২০২৩ সালে প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়।
চলতি বছরের ৩০ মার্চ প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইউএসডিটি শনাক্ত করে তা জব্দ করা হয়। উন্নত ব্লকচেইন বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনা এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অর্থটি বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি দেশের ইতিহাসে বিদেশে পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি পুনরুদ্ধারের প্রথম বড় সাফল্য।
সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, “আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয়ে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এটি সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি মাইলফলক।”
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড পেজে এই সাফল্যের প্রশংসা করে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্বের ইতিবাচক ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও সিআইডির সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার ফল হিসেবে এ অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এমটিএফই নামের এই ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগকারীদের কৃত্রিম লাভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হতো। পরে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে অর্থ পাচার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
