বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪–এ নিহত, আহত ও কর্মক্ষমতা হারানোদের পরিবারকে আবাসন নিরাপত্তা দিতে মিরপুরে দুইটি বড় আবাসন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার (১ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রকল্প দুটি অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ জানান, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্নভাবে সহায়তা দেওয়া হলেও এবার প্রথমবারের মতো শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য একটি সমন্বিত ও স্থায়ী আবাসন কাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রথম প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে মিরপুর সেকশন ৯–এ, যেখানে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো আন্দোলনকারীদের পরিবারের জন্য ১,৫৬০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ১,২৫০ বর্গফুট। ১৪ তলা বিশিষ্ট ১৫টি ভবনে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৩৪৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কাজটি সম্পন্ন করবে। আধুনিক লিফট, জেনারেটর, ফায়ার হাইড্রেন্ট, সিসিটিভি, ইন্টারকমসহ নিরাপত্তা ও সুবিধাবিষয়ক সব অবকাঠামো থাকবে প্রকল্পে।
দ্বিতীয় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে মিরপুর সেকশন ১৪–এ, শহীদ পরিবারের জন্য। ‘৩৬ জুলাই’ নামে এই প্রকল্পে নির্মিত হবে মোট ৮০৪টি ফ্ল্যাট। ১৪ ও ১০ তলার মিলিত ১৮টি ভবনে এসব ফ্ল্যাট হবে, প্রতিটির আয়তন ১,৩৫৫ বর্গফুট। ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৬১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, সোলার সিস্টেম, পার্কিংসহ সব আধুনিক সুবিধার কথাও এতে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প কাঠামোও হালনাগাদ করা হয়েছে।
একনেক সভায় প্রকল্প দুটিকে অনুমোদনযোগ্য মনে করা হলেও কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত শহীদ পরিবার বা আহত যোদ্ধার পরিচয় যাচাই নিশ্চিত করতে হবে, পূর্বে সরকারি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া থাকলে নতুন বরাদ্দ মিলবে না এবং বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ভুয়া তথ্য দিলে বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশনাও যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এসব শর্ত প্রকল্পের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া ঠেকাতে জরুরি।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, ব্যয় যৌক্তিকতা ও নকশা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় জুলাইয়ে এ প্রকল্প অনুমোদন স্থগিত করা হয়েছিল। সংশোধিত প্রস্তাব যাচাইয়ের পরই এবার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি নীতির আওতায় আনা হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বয়ক ভূমিকায় থাকবে।
দুই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২,১০৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সরকারের মতে, কেবল ফ্ল্যাট বরাদ্দ নয়—এই উদ্যোগ যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাকে আরও সুদৃঢ় করবে।
