‘ভষ্ম’ হয়ে যাওয়ায় সাতজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ শেষ ভরসা

বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান।

ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় এখনো সাতজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, ভষ্মীভূত হয়ে যাওয়া এসব মরদেহের শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

সোমবার রাতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যাদের শনাক্ত করা যায়নি, তারা একেবারেই দেহাবশেষে পরিণত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়টি দেহাবশেষ সিএমএইচে এবং একটি উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই শিশু।

সায়েদুর রহমান আরও জানান, এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে, যাদের সবাই শিশু। অন্যদিকে, বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ২০ জনে পৌঁছেছে, আর আহত হয়েছেন ১৭১ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৮৮ জন, যাদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহতদের অধিকাংশই শিশু এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ, কারও কারও শরীরের ৩০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। গুরুতর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট, সিএমএইচ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সাতটি হাসপাতালে। শুধু বার্ন ইনস্টিটিউটে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে ৯ জন, যারা ভেন্টিলেটরের ওপর নির্ভরশীল।

সংক্রমণ এড়াতে সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে বিশেষ সহকারী বলেন, এই পরিস্থিতিতে অযথা হাসপাতালে আসা কিংবা জনসমাগম থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রক্তেরও এখনই অতটা প্রয়োজন নেই। যারা রক্ত দিতে আগ্রহী, তাদের নাম-নম্বর রাখা হচ্ছে, প্রয়োজন হলে ডাক দেওয়া হবে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিনও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা রাজনীতিবিদরাও রোগীর কাছে যাচ্ছেন না। সেবা দানকারী ছাড়া ভেতরে কারও প্রবেশ নিষেধ। রোগীর সুরক্ষাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

চিকিৎসাসেবা ও সরঞ্জামের ঘাটতির বিষয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, এখানে পর্যাপ্ত আইসিইউ শয্যা, ভেন্টিলেটর এবং হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট প্রস্তুত আছে। এখনকার অবস্থা অনুযায়ী কোনো অভিভাবক বা রোগীর বাইরে থেকে চিকিৎসা সামগ্রী আনার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ৫০ শতাংশ রোগী আশঙ্কাজনক, এবং বাকি যারা দগ্ধ হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সংক্রমণ বা অন্যান্য জটিলতায় জীবন সংকটে পড়তে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে সায়েদুর রহমান বলেন, এই দুর্ঘটনায় আমরা যেন কোনো ভুল না করি, আমরা যেন আমাদের সম্পূর্ণ সামর্থ্য প্রয়োগে সফল হই—সেই দোয়াই চাইছি। ছোট ছোট শিশুরা আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তারা যেন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই কামনাই করছি।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *