জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ সংসদে বাতিল হওয়ায় কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে কমিশনটি। ফলে চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের নিয়োগও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিন কমিশনের সদস্যরা অফিস করেননি।
সোমবার বিকেলে কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ২০০৯ সালের পূর্ববর্তী আইন পুনর্বহাল হয়েছে। এতে বর্তমান কমিশনের নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে বিদায়ী সদস্যদের পক্ষ থেকে জনগণের উদ্দেশে একটি খোলাচিঠি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর তা অবিলম্বে কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনরায় চালু করা হয়।
কমিশনের সচিব কুদরত-এ-ইলাহী জানান, নতুন করে আইন কার্যকর হওয়ায় আগের কাঠামোর কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। তবে সদস্যদের পাঠানো খোলাচিঠির বিষয়টি তিনি এখনো পর্যালোচনা করেননি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান মো. নূর খান, ড. নাবিলা ইদ্রিস, শরিফুল ইসলাম ও ইলিরা দেওয়ান।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পূর্ববর্তী কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা পদত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ভিত্তিতে নতুন কমিশন গঠন করা হলেও তা দুই মাসের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়ল।
