মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

অর্থ মন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার সুবিধাভোগীদের জন্য ভাতা ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ। সভায় জানানো হয়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত কমিটির কার্যপরিধির আওতায় থাকা মোট ১৫টি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন খাতে মাসিক ভাতার হার বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় ২০২৬–২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মোট ১৫ লাখ জেলেকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন পায়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব প্রায় ২ লাখ ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। একইভাবে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতার হারও বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাসিক হার সব স্তরেই বাড়ানো হয়েছে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ভাতার হার বৃদ্ধি, উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ছাড়া ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা দ্বিগুণ করে এক লাখ টাকা করা হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে প্রায় দেড় লাখ নতুন উপকারভোগী যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করার সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।

সভায় গৃহীত এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনমান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *