ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও সেনা সমাবেশের পর ভেনেজুয়েলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। দেশটির অভ্যন্তরে সেনা সদস্য, ভারী অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বুধবার পর্যন্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় অংশ নেবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সাম্রাজ্যবাদী হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা দেখিয়েছেন।
মহড়ায় অংশ নিচ্ছে নিয়মিত সেনা ইউনিটের পাশাপাশি রিজার্ভ বাহিনী বলিভারিয়ান মিলিশিয়া। এই মিলিশিয়া সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে গঠিত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো কমান্ড, কন্ট্রোল ও যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন নৌবাহিনী তাদের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ ক্যারিবীয় সাগরের আভিযানিক এলাকায় পাঠিয়েছে। রণতরীর সঙ্গে রয়েছে নয়টি বিমান স্কোয়াড্রন, দুটি আর্লে বার্ক-ক্লাস গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জাহাজ এবং ৪ হাজারের বেশি নাবিক।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সেনা মোতায়েন মাদুরোর বৃহত্তর ‘স্বাধীনতা পরিকল্পনার’ অংশ। পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়মিত সেনা, মিলিশিয়া এবং পুলিশ বাহিনী একযোগে দেশ রক্ষায় সক্রিয় হবে। দেশটির নিয়মিত সেনা সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার। মাদুরোর দাবি, মিলিশিয়া ও স্বেচ্ছাসেবী মিলিয়ে রিজার্ভ সদস্য ৮০ লাখের বেশি।
সিএনএন আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পুয়ের্তো রিকোতে ১০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, কমপক্ষে তিনটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং ৫ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সামরিক কর্মকাণ্ডে লক্ষ্য হলো মাদক পাচার প্রতিরোধ। তবে ভেনেজুয়েলা মনে করছে, প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো মাদুরো সরকারের ক্ষমতা হ্রাস করা।
