রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার সড়ক শৃঙ্খলায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গত ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থায় ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে যুক্ত ক্যামেরা সড়কের বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করছে।
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই এআই ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, স্টপ লাইন অতিক্রম, অবৈধ পার্কিং, মোটরসাইকেলে হেলমেট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট ব্যবহার না করা এবং চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের মতো ট্রাফিক লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে।
সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা তৈরি করা হচ্ছে। এরপর যানবাহনের নম্বর প্লেট বিশ্লেষণ করে বিআরটিএর ডাটাবেস থেকে মালিকের তথ্য সংগ্রহ করে মোবাইল ফোনে এসএমএস এবং ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দুই সপ্তাহের পরীক্ষায় তিন হাজারের বেশি ট্রাফিক লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যাচাই শেষে চার থেকে পাঁচশটি মামলার নোটিশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশেও এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ছয় মাসে রাজধানীর ৬০টি এবং এক বছরে ১২০টি ট্রাফিক পয়েন্টে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ৫০০টিরও বেশি সড়ক জংশনকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে, যানজট ও দুর্ঘটনা কমবে এবং ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়বে।
