এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটের টাকার নতুন পাহারাদারে পরিণত হয়েছে বিএনপি। তিনি বলেন, দুইটি আসন দিয়ে এনসিপিকে কেনা যাবে না। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত না এলে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এনসিপি-সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের (এএলএ) আত্মপ্রকাশ ও ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, গত ১৫ বছরে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটের টাকা বারিধারাসহ বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এসব টাকার নতুন পাহারাদার এখন বিএনপি। সরকারের দায়িত্ব ছিল লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া। অথচ অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের অনেকে জনগণের আস্থা ভঙ্গ করেছেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মতো পরিণতিই বিএনপির হবে। আমাদের দুইটা আসন দিয়ে কেনা যাবে না। আপনাদের জোর টাকার মনোনয়ন, আমাদের জোর রক্ত। আমরা দুর্নীতির টাকায় নির্বাচন করব না, প্রয়োজনে রক্ত দিতে প্রস্তুত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জুলাই সনদ গণভোট জনগণ বোঝে না” মন্তব্যের জবাবে নাসীরুদ্দীন বলেন, “আপনি যদি না বোঝেন, তাহলে রাজনীতিতে এসেছেন কেন?
ঢাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন, ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সতর্কতা
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই, আছে নির্বাচন। সঙ্কট নিরসনে নির্বাচনই একমাত্র পথ।
এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সংবিধান সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এএলএ আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস. এম. আজমল হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনীম জারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক যোবায়ের আল মাহমুদ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমরান ভূঁইয়া প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। শেষে ৭৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
