আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নেবে না জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে দল দুটি তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
কারাবন্দি সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের পক্ষে দপ্তর সম্পাদক সজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও তারা এবারের নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিচ্ছে না। দলটির মতে, বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক এবং একতরফাভাবে আয়োজন করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নয় এবং তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবর্তে অসাংবিধানিক গণভোট ও একতরফা সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে বলেও অভিযোগ করে জাসদ।
অন্যদিকে, কারাবন্দি সভাপতি রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি তাদের বিবৃতিতে রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে দলটিকে একঘরে করার অভিযোগ তোলে। দলটির দাবি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে আবারও সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া একতরফা নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে দেশের একটি বড় অংশের ভোটার ও রাজনৈতিক দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া রাজনৈতিক সংকট নিরসনের বদলে দেশকে নতুন অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। নির্বাচনের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সরকারকে সব রাজনৈতিক দলের জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এতে ব্যর্থ হলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করে দলটি।
উল্লেখ্য, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অংশ ছিল। এ সময় জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন।
