বিআরআইসিএমে তহবিল তছরুপের অভিযোগে শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বিশেষ প্রতিনিধি :

2 Min Read

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মালা খানকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিআরআইসিএমের মহাপরিচালক অনুপম বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর মালা খানের বিরুদ্ধে প্রকল্পটিতে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়। এর পরদিন ২৩ ডিসেম্বর গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিআরআইসিএম পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পিসিআর দাখিলের পরও আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে, যা তহবিল তছরুপ ও প্রতারণার শামিল। অনিয়ম সংঘটনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ও একক ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকারী হিসেবে মালা খানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর হওয়ায় তাকে দায়িত্বে বহাল রাখলে গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য ও প্রমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিআরআইসিএম কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ২০২২-এর ৫৫(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি সরকারি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে শুরু হয়ে ২০২২ সালে শেষ হওয়া প্রকল্পটির অডিট হয় ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। অডিট প্রতিবেদনে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অডিট অনুযায়ী প্রকল্প হিসাবে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

এছাড়া প্রকল্প শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর পুরোনো চেক ব্যবহার করে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ লাখ টাকা স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে, যার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পাঠানোর তথ্যও উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞানী পরিষদের সভাপতি মালা খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *