প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা ও ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি ইস্যু সামনে এনে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তার নিজের মন্ত্রিসভা ও দলে যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ঋণগ্রস্ত। তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন—এ প্রশ্নের উত্তর জনগণ জানতে চায়। নিজের দল ও মন্ত্রিসভা থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
‘পরিবর্তনের প্রতিফলন নেই নতুন মন্ত্রিসভায়’
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে।
তার অভিযোগ, ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী না থাকায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা হয়নি। এছাড়া মন্ত্রিসভার গড় বয়স প্রায় ৬০ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ নেতৃত্বের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন সীমিত।
তিনি দাবি করেন, মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে মন্ত্রিসভা হওয়া উচিত প্রতিনিধিত্বশীল ও বহুমাত্রিক। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হলে তারা জনগণের চেয়ে ব্যবসায়ী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন।
‘সবচেয়ে বড় তিন মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি’
নাহিদ ইসলাম নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন, বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং একটি হত্যা মামলার আসামি। তার ভাষ্য, দলের ভেতরে বিশেষ গুরুত্ব না থাকা সত্ত্বেও আর্থিক প্রভাবের কারণে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি এবং তাদের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগে প্রশ্ন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নিয়োগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের আনা হয়েছিল দেশের স্বার্থে। তবে সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কাউকে নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে হলে তা রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল। অন্যথায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, দেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলটির কার্যালয় খোলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আইনত নিষিদ্ধ এবং তাদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান। সরকারের নীরব সমর্থন বা প্রশাসনিক প্রশ্রয় ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
