চাঁদাবাজির প্রমাণ দিতে পারলে আত্মহত্যার চ্যালেঞ্জ বিএনপি নেতার

পাবনা প্রতিনিধি :

3 Min Read
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি নেতা কাজী খোকন। শনিবার সন্ধ্যায় পাবনার চাটমোহর রেলবাজারে।

“চাঁদাবাজির সংক্রান্ত বিষয়ে যদি আমার কোনো জায়গায় সম্পৃক্ততা থাকে, যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি রাজনীতি তো দূরে থাক, আমি আত্মহত্যা করবো” বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন রেজাউল করিম খোকন নামে এক বিএনপি নেতা।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় পাবনার চাটমোহর রেলবাজারে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

রেজাউল করিম খোকন ওরফে কাজী খোকন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক। তিনি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের খবির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।

একই উপজেলার মহরমখালি গ্রামের হারুন অর রশীদ নামের এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ তোলেন বিএনপি নেতা কাজী খোকনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রেলবাজার এলাকায় হারুনকে মারধর করেন খোকন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, কাজী খোকন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। না দেওয়ায় তাকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন হারুন।

এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি নেতা কাজী খোকন। তিনি বলেন, দেশনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তার প্রেক্ষিতে আমি আমার এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। হারুন একজন মাদকের ডিলার ও আদম ব্যবসায়ী। এটা সবাই জানে। আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। এছাড়া তার সাথে মাদক বিক্রির কাজ করে ডলার নামে এক ছেলে। হারুন তাকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করে। টাকা ফেরত না দিয়ে তাকে হুমকি ধামকি দেয়। ডলার কান্নাকাটি করে আমাকে বিষয়টি জানানোর পর হারুনকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলি। কিন্তু সে টাকা ফেরত না দেয়ায় কিছু মারধর করি। পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাইলে এলাকার কিছু নেতা বিষয়টি সমাধানের কথা বলে হারুনকে নিয়ে যায়। তারপরই আমাদের দলেরই কিছু বড় নেতা ষড়যন্ত্র করে হারুনকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

কাজী খোকন আরো বলেন, মূলত মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে চরিত্র হনন করা হয়েছে। আপনারা তদন্ত করে দেখেন, আমাকে সহযোগিতা করেন, প্রশাসনকেও সহযোগিতা করেন। আমি যদি তাই হই, আপনাদের সামনে ওয়াদা করছি, চাঁদাবাজির কোনো সংক্রান্ত বিষয়ে যদি আমি কোনো জায়গায় সম্পৃক্ততা থাকে তাহলে আমি রাজনীতি তো দূরে থাক আমি আত্মহত্যা করবো। আর হারুন কেন আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুললো তার কাছে প্রমাণ নেন, তদন্ত করে দেখেন। সে একজন মাদকের ডিলার, ইয়াবা ব্যবসায়ী সেটাও তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস আলো, মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ঠান্টু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *