জুলাইয়ের কর্মসূচি রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা না করায় সরকারের সমালোচনায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা না করায় সরকারের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, জুলাইয়ের গণহত্যা ও অভ্যুত্থানের ইতিহাস রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথভাবে তুলে ধরা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাই শহীদ ও আহতদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাইয়ের ভয়াবহ দিনগুলোতে আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। অন্যথায় ইতিহাস বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করা বিএনপি সরকারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংস্কারের পরিবর্তে পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরে যাচ্ছে।

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলে বুলবুল বলেন, যে গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, সেই জুলাইয়ের চেতনাকে উপেক্ষা করা ঠিক হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকলেও শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।

অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান বলেন, গণভোটে অংশ নেওয়ার পরও সরকার সেই রায়ের প্রতিফলন ঘটায়নি। তাঁর দাবি, রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে আবারও আন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

জুলাই শহীদ জিহাদ হোসেনের বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বারবার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

- Advertisement -

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শহীদ রেজাউল করিমের বাবা আল-আমীন মীর, শহীদ আলিফের বাবা সৈয়দ গাজীউর রহমান, জুলাইয়ে আহত শাহ আলম গাজী ও কামরুল ইসলাম। বক্তারা দ্রুত জুলাই-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বছর সরকারিভাবে আগেভাগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত ১৬ জুলাই শহীদ দিবস এবং ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপি এখনো দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও ছাত্রদল ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *