বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নথিপত্র তলব করেছে। গত বছরের ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সংস্থাটি।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট চিঠিতে চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরিন এবং ছেলে জারান আলী চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরের কাছেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার লেনদেন, এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙার নামে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া তাদের ব্যক্তিগত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো ঋণ গ্রহণ করা হয়ে থাকলে, সংশ্লিষ্ট ঋণ আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও ঋণ হিসাবের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমসংক্রান্ত কাগজপত্রও জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ জমা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুন বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে।
