সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত চারজন কুখ্যাত অপরাধী আত্মসমর্পণ করেছেন।
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব, পিএসসি (সিগন্যালস্) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চোরাচালানকারীদের গ্রেপ্তারে বিজিবি ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ভেটখালী এলাকা থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও দিনভর সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির মুখে তারা কালীগঞ্জ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
বিজিবি ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণকারী চারজনকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে নেদা কয়াল (৩৫), মো. রেজাউল ইসলাম, মো. হাফিজুর রহমান ও মো. আব্দুর রহিম। সবাই শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা।
বিজিবি সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘ সাত বছর ধরে অস্ত্রসহ অবৈধ চোরাচালান, মানবপাচার ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক জলদস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজীব বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চোরাচালান ও মানবপাচার চক্রের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও মানবপাচার রোধে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
