সংরক্ষিত নারী আসন: সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন ও বিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের যাত্রা শুরু হয় স্বাধীনতার পরপরই। ১৯৭২ সালের সংবিধানে এ বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বিধান যুক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তিত ও সম্প্রসারিত হয়েছে।

সূচনা পর্ব (১৯৭২–১৯৭৩)

১৯৭২ সালের সংবিধানে নারীদের জন্য প্রথমবারের মতো সংসদে ১৫টি আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়। এ ব্যবস্থার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ১০ বছর। এর ভিত্তিতে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদে ১৫ জন নারী সদস্য পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন, যারা সরাসরি ভোটে নয় বরং সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।

আসন বৃদ্ধি ও মেয়াদ বাড়ানো (১৯৭৮–১৯৭৯)

পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। একই সঙ্গে এই ব্যবস্থার মেয়াদ আরও ১৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়। এ সময় নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে গুরুত্ব পেতে থাকে।

সাংবিধানিক সংশোধন ও নতুন কাঠামো

দীর্ঘ বিরতির পর সংরক্ষিত নারী আসনের কাঠামোতে আবার পরিবর্তন আসে। ২০০৪ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদের সময় সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৫ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত করা হয়।

বর্তমান ব্যবস্থা (২০১১ থেকে)

২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। বর্তমানে ৩০০টি সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের অনুপাতে এই ৫০টি আসনে নারী সদস্যরা নির্বাচিত হন।

- Advertisement -

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর কার্যকারিতা ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কও রয়েছে। একদিকে এটি নারীদের সংসদে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি সময়ের সঙ্গে আরও জোরালো হয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *