দেশীয় প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ সেবা এক্সওয়াইজেড–এর সিইও ও চেয়ারম্যান আদনান ইমতিয়াজ হালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ৩–এর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটি করেন সেবা এক্সওয়াইজেডের সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) রোনাল্ড মিকি গোমেজ। তার অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে বেতন থেকে কেটে রাখা আয়করের চালান তাকে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে তার বেতন থেকে কেটে রাখা প্রায় ১৮ লাখ টাকার কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তার মোট বকেয়া পাওনার পরিমাণ ৪১ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে সিওও হিসেবে যোগ দেওয়ার পর জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের জুলাই পর্যন্ত তার বেতন থেকে ১৩ লাখ ১ হাজার ৭৯৮ টাকা আয়কর কেটে রাখা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের চাপে অক্টোবরে পদত্যাগ করলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তবে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর এই পাঁচ মাসের বেতন তিনি পাননি বলে অভিযোগ। এ সময় আরও ৫ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৫ টাকা কর বাবদ কেটে রাখা হয়। সব মিলিয়ে ১৮ লাখ ২০ হাজার ২৮৩ টাকা আয়কর হিসেবে কর্তন করা হলেও এর বিপরীতে কোনো চালান সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর আশঙ্কা, চালান না থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় তাকে পুনরায় ওই অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। একই সঙ্গে কেটে রাখা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩৬২/২৬ নম্বর সিআর মামলার ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদনান ইমতিয়াজের বাসা মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় হওয়ায় পরোয়ানা তামিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমপির মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
এদিকে বকেয়া বেতন ও কর সংক্রান্ত নথি না পাওয়ার অভিযোগে শ্রম আদালতেও পৃথক মামলা করেছেন রোনাল্ড মিকি গোমেজ। তার দাবি, মামলা চালিয়ে গেলে বকেয়া পরিশোধ করা হবে না এমন চাপও দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আদনান ইমতিয়াজ বলেন, এটি সাবেক এক কর্মীর সঙ্গে আর্থিক বিরোধ থেকে সৃষ্ট বিষয়। কোম্পানি আদালতের প্রতি সম্মান রেখে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
