১২টি আসনে ১০ নারী নেত্রীকে মনোনয়ন বিএনপির

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যায়, নারীদের সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৩৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ৩৬ নারী প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন, ২০০১ সালে ৩৮ নারী প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, ২০০৮ সালে ৫৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন, ২০১৪ সালে ২৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নারী সরাসরি ভোটে সংসদে গিয়েছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

4 Min Read
শামা ওবায়েদ, চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, ছবি - সংগৃহীত।

জুলাই সনদের সুপারিশ মেনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে ১২টি আসনে ১০ নারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার জন্য ঘোষণা করা হয়েছে তিনটি আসন: দিনাজপুর–৩, বগুড়া–৭ ও ফেনী–১। আরপিও অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। অতীতে তিনি পাঁচটি আসনেও প্রার্থী হয়েছিলেন এবং কখনো পরাজিত হননি।খালেদা জিয়ার পৈত্রিক নিবাস ফেনী, স্বামী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়া, আর তার জন্ম ও শৈশব কেটেছে দিনাজপুরে। তবে দিনাজপুর থেকে এবারই প্রথম তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী, সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই লক্ষ্যটি ২০২০ সালের মধ্যে অর্জন করার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি, ফলে সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যায়, নারীদের সরাসরি নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ৩৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ৩৬ নারী প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন, ২০০১ সালে ৩৮ নারী প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, ২০০৮ সালে ৫৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন, ২০১৪ সালে ২৯ নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন নারী সরাসরি ভোটে সংসদে গিয়েছিলেন।

এরপর ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ২২ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচনে ৯৪ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে ১৯ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার বাইরে প্রার্থী তালিকায় যেসব নারী নেত্রীর নাম এসেছে;

* সানজিদা ইসলাম তুলি (ঢাকা–১৪): গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক। ২০১৩ সালে তার ভাই সাজেদুল ইসলাম নয়ন র‌্যাব পরিচয়ে নিখোঁজ হন।

* আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ–৩): মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান। প্রয়াত হারুনার রশীদ খান মুন্নুর কন্যা।

* তাহসিনা রুশদীর লুনা (সিলেট–২): গুম হওয়া সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী; ২০১২ সালের পর থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত।

- Advertisement -

* শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর–২): বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা।

* চৌধুরী নায়াব ইউসুফ (ফরিদপুর–৩): জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা।

* ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি–২): সাবেক সাংসদ ও প্রয়াত জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী; দুই দফায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

- Advertisement -

* ফারজানা শারমিন পুতুল (নাটোর–১): বিএনপির ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও হাইকোর্টের আইনজীবী। চারবারের এমপি ফজলুর রহমান পটলের কন্যা।

* সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা (শেরপুর–১): জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর কন্যা; একাদশ সংসদ নির্বাচনে ছিলেন বিএনপির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী।

* সাবিরা সুলতানা মুন্নী (যশোর–২): ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য। তার স্বামী নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে অপহৃত হয়ে নিহত হন।

এই তালিকার মাধ্যমে বিএনপির নারী অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়লেও, মোট আসনের তুলনায় তা এখনও সীমিত।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *