ইভটিজিংয়ের আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন থমকে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে খালি হতে বসেছে শ্রেণিকক্ষ, হুমকির মুখে পড়েছে পুরো স্কুলের কার্যক্রম।
উপজেলা ও থানা ভবন থেকে মাত্র কয়েক গজ দূরে অবস্থিত এ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। কিন্তু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিনই কেউ না কেউ অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে তাদের গায়ে হাত দেয় কিংবা ওড়না ধরে টানে। এ কারণে বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে অনেকেই।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এভাবে চলতে থাকলে তারা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন। তাদের কথায়, আমরা নিরাপদে পড়াশোনা করতে চাই। কিন্তু ইভটিজিং আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে।
কয়েকজন অভিভাবকও একই সুরে বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মেয়েদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেবেন বলে জানান।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হারুন-অর রশীদ বলেন, গত বছরের আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলা চত্বর থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার নির্জন রাস্তায় বখাটেরা উৎপেতে থাকে। অনেক সময় ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়া, ওড়না টানা—এসব ঘটনায় আমরা আতঙ্কে আছি। ইউএনও ও থানায় অভিযোগ করেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির মোল্যা দাবি করেন, স্কুল চলাকালে ইভটিজিং রোধে পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইভটিজিং শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, পুরো সমাজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাদের অভিমত, সচেতনতা, আইন প্রয়োগ ও পারিবারিক মূল্যবোধ জোরদার করলেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই সংকটে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
