গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আবারও গণতন্ত্র ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আজ দেশে নানা উপায়ে গণতন্ত্রকে আবার ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। এই মুহূর্তে, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমাদের সেই পথেই এগোতে হবে যে পথে আমরা সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে পারব, জনগণের ভোট ও বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে পারব। বিএনপি সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের গণভোট নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা গতকালই স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, ওটাই আমাদের অবস্থান।
এর আগে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি বিশ্বাস করে, দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে যে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে, সংশ্লিষ্ট সব রাজনৈতিক দল তার বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। কেউ নতুন করে কোনো প্রশ্ন তুলে বা সংকট সৃষ্টি করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা দেবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জুলাই জাতীয় সনদের আলোচ্য বিষয়গুলোর আইনানুগ বাস্তবায়ন ও যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য আন্তরিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপি।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতা আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, ড্যাব, অ্যাব, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকেও জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে আধিপত্যবাদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেয়। তারা স্বাধীনতার ঘোষক ও মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন—যা বাংলাদেশের অগ্রগতির এক মোড় পরিবর্তনের ঘটনা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধান হন জিয়াউর রহমান। পরে খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের সময় তিনি গৃহবন্দি হন। এর পর ৭ নভেম্বর জাসদ-সমর্থিত কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে জিয়া মুক্ত হন এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। বিএনপি দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার, বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেল মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।
