ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনা ট্রান্সপোর্টের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহসহ তাঁর পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এনায়েত উল্লাহ পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার টাকা পাচার করেছেন।
বুধবার সিআইডির গণমাধ্যম শাখা পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯৯টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যার মধ্যে থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ২ হাজার ৭ কোটি টাকা। এ হিসাবগুলোর মধ্যে এনা ট্রান্সপোর্টের ৪৩টি হিসাবে জমা হয়েছে ৯৩৪ কোটি টাকা, এনা ফুড অ্যান্ড বেভারেজের আটটি হিসাবে ৪১০ কোটি টাকা এবং এনায়েত উল্লাহর ব্যক্তিগত ৭৪টি হিসাবে জমা হয়েছে ৪৫৯ কোটি টাকা।
সিআইডি জানিয়েছে, চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে ‘স্ট্রাকচারিং’ বা ‘স্মার্ট লেয়ারিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে এনায়েত উল্লাহর ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাট ও রূপগঞ্জের দুটি প্লট জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। পাশাপাশি তাঁর ও সহযোগীদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১১০ কোটি টাকা রয়েছে।
মামলাটি পরিবহন খাতের আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ অর্থপ্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
