ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটের তফসিল ঘোষণা করায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে এ শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
বার্তায় তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নতুন একটি মাইলফলক সংযোজিত হয়েছে। ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন পথচলা শুরু হয়েছে—এই নির্বাচন ও গণভোট সেই অগ্রযাত্রাকে আরও দৃঢ় করবে এবং জনতার মতামতকেই প্রাধান্য দেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি আরও সুসংহত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে—এ বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ আশাবাদী। নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং দেশের জনগণের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানান—এই নির্বাচন ও গণভোটকে জাতীয় ঐক্যের এক বৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করার জন্য। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক আচরণ দেশের ভবিষ্যৎকে আরও স্থিতিশীল করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশ একটি নতুন ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এবং দায়িত্বশীল অংশগ্রহণই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণের পথ সুগম করবে।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর; যাচাই–বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ দিন ১১ জানুয়ারি এবং আপিল শুনানি ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দসহ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
