মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-এর ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে ইউনিটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
রিফাইনারির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্রুড তেলবাহী জাহাজ বিলম্বিত হওয়ায় কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। তবে রিফাইনারির অন্যান্য চারটি ইউনিট—এসফল্টিক বিটুমিন প্ল্যান্ট, ভিসব্রেকার ইউনিট, ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট এবং কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট—এখনো চালু রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার বড় অংশই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হয়ে রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এখান থেকেই এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেলসহ প্রায় ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়।
তিনি আরও বলেন, অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির চেষ্টা চললেও তা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি। মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন ক্রুড তেল আমদানির একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জামানত জমা না দেওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মজুত থাকা সীমিত তেল ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে জমা ডেড স্টক থেকেও কিছু পরিমাণ তেল উত্তোলন করে ব্যবহার করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের চালান পৌঁছায়নি। সর্বশেষ চালানটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছিল। বর্তমানে এক লাখ টন তেলবাহী একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতির অপেক্ষায় সৌদি আরবের বন্দরে অবস্থান করছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে এক থেকে দুই মাস রিফাইনারি আংশিক বন্ধ রাখা হলেও সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হওয়া উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিকল্প দেশ থেকে ক্রুড তেল আমদানির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
