ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করা ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন কাম্য।”
ঢাকা-১০ আসনের অন্তর্ভুক্ত ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা। নির্বাচনী মাঠে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ আসনে কোনো প্রার্থী দেননি।
উপদেষ্টা থাকাকালীন নিজের ভোটার এলাকা কুমিল্লা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করার জন্য গত ৯ নভেম্বর ধানমন্ডি থানা নির্বাচন কার্যালয়ে আসেন আসিফ। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, ঢাকার কোনো একটি আসন থেকে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার ইচ্ছে রয়েছে। এরপর গত বুধবার তিনি অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়ায়। তবে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন জানান, প্রাথমিক আলাপ হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সিইসি নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের তফসিল ঘোষণা করেন, যেখানে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আসিফ মাহমুদ তার ভিডিও পোস্টে বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ এসেছে দীর্ঘ ১৭ বছর পর। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রতিটি নাগরিকের জন্য জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র ও নতুন সামাজিক, রাজনৈতিক ও জিওপলিটিক্যাল বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “এই লড়াই সহজ নয়। তবে আগের আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা নিয়ে আমি এই পুনর্গঠন ও বিনির্মাণের লড়াই চালিয়ে যেতে চাই। আমি ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, নিউ মার্কেট এবং কামরাঙ্গীর চরের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছি। কোনো বড় রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় অর্থ আমার নেই। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থনই আমার একমাত্র অবলম্বন।”
এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন আসিফ। পরে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আরেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভোট অংশগ্রহণ এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ভোটার এবং সেখানে বিএনপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারে মাহফুজ আলম ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।
