তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে একটি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন লিবিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদ। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আঙ্কারা থেকে উড্ডয়ন করার পর, বিমানটি কিছুক্ষণের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।
নিহত অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন—লিবিয়ার স্থলবাহিনীর প্রধান আল-ফিতুরি ঘারিবিল, সামরিক বাহিনীর উৎপাদন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মাহমুদ আল-কাতাওয়ী, সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আল-আসাওই দিয়াব এবং সামরিক চিত্রগ্রাহক মুহাম্মদ ওমর আহমেদ মাহজুব।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তিন ক্রু সদস্যের নামও প্রকাশ করেছে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টরেটের প্রধান বুরহানেত্তিন দূরান জানিয়েছেন, আঙ্কারা প্রধান প্রসিকিউটর অফিস এই ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে।
বিমানটির ধ্বংসাবশেষ আঙ্কারা থেকে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে তুর্কি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড জড়িত নেই, তবে এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জেনারেল আল-হাদ্দাদ এবং তার দল তুরস্কে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনার জন্য সফরে গিয়েছিলেন। বৈঠক শেষে তারা একটি প্রাইভেট জেটে ফিরছিলেন। জেনারেল আল-হাদ্দাদ পশ্চিম লিবিয়ার শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ছিলেন এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ার সামরিক বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবা এই দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, এটি লিবিয়ার জন্য একটি বড় ক্ষতি।
বিমানটি আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করার পর প্রায় ৪০ মিনিট পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল বলে জানায় তুরস্কের কর্তৃপক্ষ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি বিধ্বস্ত হয়।
লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের পর থেকে, তুরস্ক ওই দেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, এবং অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে আসছে।
