পৌষের কনকনে শীতে জমে উঠেছে চায়ের দেশ সিলেট। মাঠের গ্যালারিতে শীতের ছোঁয়া থাকলেও ব্যাট হাতে আগুন ঝরিয়ে ভক্তদের উষ্ণতা ছড়ালেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিপিএলের দ্বাদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে সিলেট টাইটান্সের বড় লক্ষ্য সহজেই টপকে দলকে ৮ উইকেটের জয় এনে দেন তিনি।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিশিরের প্রভাব মাথায় রেখে টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শান্ত। ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেট টাইটান্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৯০ রান।
সিলেটের শুরুটা করেন ওপেনার সাঈম আইয়ূব। ১৫ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় তিনি করেন ২৮ রান। অন্য ওপেনার রনি তালুকদার ৩৪ বলে চারটি চারে ৪১ রান যোগ করেন। তিন নম্বরে নেমে হযরতুল্লাহ জাজাই করেন ১৮ বলে ২০ রান। তবে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন পারভেজ ইমন ও আফিফ হোসেন। মাত্র ৬.৫ ওভারে ৮৬ রানের জুটি গড়েন এই দুজন। ইমন ৩৩ বলে পাঁচ ছক্কা ও চারটি চারে করেন ৬৫ রান, আর আফিফ ১৯ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় যোগ করেন ৩৩ রান।
১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় রাজশাহী। ৩ ওভারে ১৯ রানে আউট হন তানজিদ তামিম (১০)। এরপর পাকিস্তানি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ১৯ বলে ২০ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে দল। তবে সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম।
এই জুটি অবিচ্ছিন্নভাবে ১৩০ রান যোগ করে রাজশাহীকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। শান্ত ৬০ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৫টি ছক্কা। অন্যদিকে বিপিএল নিলামে দল না পাওয়া মুশফিক ৩১ বলে চারটি চার ও দুই ছক্কায় করেন ৫১ রান। ম্যাচ জয়ের শট হাঁকিয়ে ফিফটি পূরণ করে কানে আঙুল দিয়ে উদযাপন করেন তিনি।
বড় রানের ম্যাচে দুই দলের বোলাররাই ছিলেন খরুচে। রাজশাহীর হয়ে সন্দীপ লামিচানে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তানজিম সাকিব ও বিনোরা ফার্নান্দো একটি করে উইকেট নিলেও খরচ করেন যথাক্রমে ৪৩ ও ৩১ রান। সিলেটের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। খালেদ ৩ ওভারে ৩০ রান দিয়ে পান একটি উইকেট, আর নাসুম ও মোহাম্মদ আমিরও রান আটকাতে ব্যর্থ হন।
শান্তর ব্যাটে ভর করে বিপিএলের নতুন আসর শুরু হলো রাজশাহীর জয়ের হাসিতে।
