গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে উঠে এসেছে সাতটি ককটেল সদৃশ বিস্ফোরক। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
শুক্রবার সকালে শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় পিয়ার আলী কলেজসংলগ্ন একটি পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। মাছ ধরার সময় জেলেরা জালে একটি ভারী শপিং ব্যাগের অস্তিত্ব টের পান। ব্যাগটি তুলতে গিয়ে দেখা যায়, এর সঙ্গে ইট বাঁধা রয়েছে। ব্যাগ খুলতেই ভেতরে পাওয়া যায় ককটেলের মতো সাতটি বস্তু।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুকুরটি মাছ চাষের জন্য ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ইজারা নিয়েছেন। নিয়মিত মাছ আহরণের অংশ হিসেবে পেশাদার জেলেদের দিয়ে জাল ফেলা হচ্ছিল। হঠাৎ বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ঝুঁকি এড়াতে সাধারণ মানুষকে পুকুর এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বস্তুগুলো পরীক্ষা শুরু করে এবং পরে সেগুলো নিরাপদে থানায় স্থানান্তর করা হয়।
পুকুরের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ব্যাগটি জালে ওঠার পর কৌতূহলবশত খুলে দেখা হয়। ককটেল সদৃশ বস্তু দেখেই তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির আহমদ জানান, উদ্ধার করা ককটেলগুলো বর্তমানে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মাওনার চকপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করছেন।
এসআই মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এগুলো তাজা ককটেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরকগুলো নিষ্ক্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে শিগগিরই এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে।
