বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাদেরকে বলে আমরা নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। তিনি বলেন, আমরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতাম, তবে তারা তখন পদত্যাগ করলেন না কেন? আসলে তাদের কোনো রাজনৈতিক জনভিত্তি নেই বলেই তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে ।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। প্রায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়ন ভাবনা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডা. জোবায়দা রহমান।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সবার আগে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর দাবি, গত ১৭ বছরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা সুশিক্ষা নিশ্চিত করবে এবং বেকারত্ব দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ঘোষণা দেন, এ অঞ্চলে মাছ চাষকে শিল্পখাতে রূপান্তর করা হবে, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কথাও বলেন তিনি, যার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষক সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন।
কৃষিতে পানির সংকট মোকাবিলায় খাল পুনর্খননের ওপর জোর দিয়ে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন। নির্বাচনের পর কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
নারীদের ভূমিকা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় মেয়েদের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় নারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি জরুরি। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তরুণরা ঘরে বসেই বৈশ্বিক বাজারে কাজ করতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে পল্লী চিকিৎসকদের মাধ্যমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মা ও শিশুদের জন্য ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভোট দিয়ে শুধু বাড়ি ফিরে না গিয়ে কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে এবং ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
