জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১৭ মাসে দেশে অন্তত ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। সহিংস ঘটনার ৯১ দশমিক ৭ শতাংশে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদের পতনের দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে সংঘটিত সহিংসতায় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায়, জামায়াতে ইসলামীর ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ২ দশমিক ২ শতাংশ, এনসিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং জাতীয় পার্টির দশমিক ৮ শতাংশ ঘটনায়।
টিআইবি জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সংঘটিত ৫৫০টি ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের এবং ১২৪টি ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়েছে। একাধিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকায় শতকরা হিসাব ১০০ শতাংশের বেশি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের পর বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েছে। পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড, পাথর কোয়ারি, বালুমহাল, হাটবাজার ও জলমহালের ইজারা নিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলকেন্দ্রিক বিরোধ থেকেই অধিকাংশ সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সহিংসতায় জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে উপদলীয় কোন্দল ও সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততায় ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবি মনে করছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
