সিলেট বিভাগের কুলাউড়া ও হবিগঞ্জে নির্বাচনী সমাবেশ শেষে শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি প্রতিপক্ষের অপপ্রচার প্রসঙ্গে বলেন, আধুনিক বিশ্বে যেমন মিসাইল নিক্ষেপের বিপরীতে এন্টি-মিসাইল ব্যবস্থা থাকে, তেমনি অপপ্রচারেরও জবাব দেওয়া হবে।
বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মঞ্চে উঠে তিনি দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা হাতে তুলে ধরে বক্তব্য শুরু করেন। সিলেটি ভাষায় উপস্থিত জনতার খোঁজখবর নিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত কোনো দলের একক বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি ও মর্যাদার বিজয় চায়, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।
শফিকুর রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জামায়াত কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক মামলা করেনি। তিনি বলেন, অতীতে জামায়াতের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হলেও দলটি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে এসেছে এবং সেই অঙ্গীকার কর্মীরা রক্ষা করেছে।
ক্ষমতায় গেলে সিলেট অঞ্চলের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে, দখলমুক্ত করা হবে নদী-খাল। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশ বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সমাবেশে তিনি সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের করার ঘোষণা দেন এবং প্রবাসে কোনো রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে তার মরদেহ দেশে আনার আশ্বাস দেন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের দাবির ফলেই প্রবাসীরা ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনে জামায়াত ও মিত্র দলগুলোর প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সিলেটের তিনটি আসনে দাঁড়িপাল্লা, তিনটিতে দেওয়াল ঘড়ি ও রিকশা প্রতীকের প্রার্থীদের পক্ষে স্লোগান দেওয়া হয়। তবে সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী শিশির মনির অনুপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার সকালে হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে এবং দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পৃথক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
