প্রচলিত রাজনীতির বাইরে এক ভিন্ন সন্ধ্যা

বিরোধী জোটের দুই নেতার বাসায় যাওয়া শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; এটি একাধারে রাজনৈতিক সংকেত, কৌশল এবং নতুন সম্পর্ক-সমীকরণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত। এটি সাময়িক প্রতীকী উদ্যোগ হয়ে থাকবে, নাকি সত্যিই সংলাপভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করবে তা সময়ই বলে দেবে।

মনিরুল ইসলাম :

3 Min Read
জামায়াতে আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রবিবার তার বাসায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই তারেক রহমানের ধারাবাহিক দুটি সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন এক বার্তা দিয়েছে। এক সন্ধ্যাতেই তিনি গেছেন শফিকুর রহমান এবং পরে নাহিদ ইসলামের বাসায়। ক্ষমতায় যাওয়ার প্রাক্কালে এমন পদক্ষেপকে অনেকেই প্রতীকী ও কৌশলগত দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

প্রথমত, এটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার রাজনীতির বাইরে সমন্বয়ের ইঙ্গিত। সাধারণত নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া দল সরকার গঠনের আগে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্য যোগাযোগে যায় না। কিন্তু তারেক রহমানের এই সফর দেখিয়েছে, অন্তত দৃশ্যমানভাবে হলেও তিনি বিরোধী ও ভিন্নমতের শক্তির সঙ্গে সংলাপের দরজা খোলা রাখতে চান। এতে রাজনৈতিক উত্তাপ কমানো ও সংসদীয় সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করার বার্তা থাকতে পারে।

দ্বিতীয়ত, এটি জোট-রাজনীতির নতুন বিন্যাসের আভাসও হতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেয়েছে। অতীতে জোটসঙ্গী থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের ধরন বদলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমানের বাসায় যাওয়া কেবল সৌজন্য নয়, ভবিষ্যতের কৌশলগত যোগাযোগের সেতুবন্ধন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ তরুণ ও বিকল্পধারার রাজনীতির প্রতিও এক ধরনের বার্তা বহন করে। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সম্ভাব্য মতপার্থক্য সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা, এ দুটো বিষয় এখানে প্রতিফলিত হতে পারে।

নাহিদ ইসলামের বাসায় তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

তৃতীয়ত, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্নও তুলে দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থান, কটাক্ষ ও সংঘাতই ছিল দৃশ্যমান বাস্তবতা। সেই জায়গায় সরকার গঠনের আগেই প্রতিপক্ষের দরজায় গিয়ে সাক্ষাৎ করা প্রতীকীভাবে রাজনৈতিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এই বার্তা কেবল সৌহার্দ্যের নয়; বরং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সম্ভাব্য সংসদীয় সমর্থন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চাপ কমানোর কৌশলও হতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও স্থিতিশীল শাসনের জন্য বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থন জরুরি এ উপলব্ধিই হয়তো এমন উদ্যোগের পেছনে কাজ করেছে।

প্রসঙ্গগত, আজ রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে সোয়া ৭টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শফিকুর রহমানের পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান। জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সাক্ষাৎ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান অগ্রিম অভিনন্দন জানান তারেক রহমানকে। তিনি লেখেন, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আগমন জাতীয় রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং এটি সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নতুন অধ্যায় সূচনা করতে পারে।

এর কিছুক্ষণ পরই রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাহিদ ইসলামের বাসায় যান তারেক রহমান। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান।

- Advertisement -

নাহিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আখতার হোসেন ও সারজিস আলম।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *