‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ তৃণমূল সমর্থকদের বহুবারের স্লোগান অবশেষে সত্যি হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর দীর্ঘ প্রবাসের পর দেশে ফিরে তারেক রহমান আজ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ করছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মাটিতে ফিরে এসে দলীয় নেতৃত্ব পুনঃস্থাপন করেছেন, যা দলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক প্রতীক নয়; এটি দীর্ঘ বছর গুম, খুন, মামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে সংকুচিত রাজনৈতিক শক্তিকে আবার সজীব করেছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে সাধারণ সমর্থকরা এই মুহূর্তকে উদযাপন করছেন উচ্ছ্বাস ও স্বপ্নের সঙ্গে।
১৭ বছরের দমন-পীড়ন- গুম, খুন ও মামলা :
বিগত সরকারের শাসনামলে বিএনপি নেতা কর্মীরা ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন। বিএনপির তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৬০০ নেতা কর্মী গুম হয়েছে। শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যেমন ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম নিখোঁজ হয়েছিলেন, যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ক্রসফায়ার’-এর মাধ্যমে প্রায় ২২৭৬ জন নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে।
মানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানিয়েছে, ২০০৯–২০২৩ সালের মধ্যে দেশে মোট ২৬৯৯টি বিচারবহির্ভূত হত্যা ঘটেছে।
একই সময়ে, মামলার পাহাড় বিএনপির তৃণমূল নেতাদের ওপর চাপ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
দলটির ‘কেস রেকর্ড সংরক্ষণ সেল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১,৪১,৬৬৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪,৯২৬,০০০ নেতা কর্মী ও সমর্থককে আসামি করা হয়েছে। এই আইন অধিকার চাপের ফলে বহু নেতা আত্মগোপনে বা দীর্ঘ সময় নির্বাসনে ছিলেন।
শারীরিক নির্যাতনও কম ছিল না। বিরোধী রাজনৈতিক সভা বা সমাবেশের আগে ও পরে নেতারা গণগ্রেপ্তার এবং কারাগারে দীর্ঘমেয়াদি বন্দিত্বের শিকার হয়েছেন।
ব্যবসা, ঘরবাড়ি ও অর্থনৈতিক জীবনে ক্ষতি, দীর্ঘ কারাবাস এবং সামাজিক নিপীড়ন দলীয় নেতাদের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলে। সূত্র – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে বিএনপির দাখিল করা অভিযোগ ।
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জেলে যেতে হয়েছে খালেদা জিয়াকে
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জেল ভোগ করেছেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের হওয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ বছর আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ জজ আদালত-৫ তাঁকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং অর্থদণ্ডও ধার্য করা হয়। ওই দিনই তাকে পুরনো ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
একই বছরের ৩০ অক্টোবর ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা বৃদ্ধির জন্য দুদকের করা আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। ২৫ মার্চ ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে তৎকালীন সরকার নির্বাহী আদেশে বেগম জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বেগম জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ মুক্তি প্রদান করেন।
৫ জানুয়ারি ২০২৫ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং অন্য সকল আসামিকে এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ খালাস প্রদান করেন এবং রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে উল্লেখ করেন।
