ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠাতে হয়। সে বিধান অনুসারেই তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন কমিশন পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে।
বর্তমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি। এসব আসন সরাসরি ভোটে নয়, বরং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। অর্থাৎ ৩০০ সাধারণ আসনে কোনো দল বা জোট যতটি আসন পেয়েছে, তার অনুপাতে নারী আসন নির্ধারিত হয়।
এ ক্ষেত্রে ৫০টি সংরক্ষিত আসনকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করে যে হার পাওয়া যায়, তা সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের শপথ নেওয়া সদস্যসংখ্যার সঙ্গে গুণ করে আসন নির্ধারণ করা হয়। ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান অনুসারে পূর্ণসংখ্যায় রূপান্তর করা হয়।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি সর্বাধিক ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ১১টি আসন। স্বতন্ত্র সদস্যরা জোটবদ্ধ হলে একটি আসন পেতে পারেন। জাতীয় নাগরিক পার্টিও একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছে। জোটগত সমীকরণে পরিবর্তন এলে আসনসংখ্যায় কিছু হেরফের হতে পারে, সে ক্ষেত্রে বিএনপির আসন ৩৬-এ এবং জামায়াতের ১৩-এ পৌঁছাতে পারে।
আসন বণ্টন চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট দল বা জোট তাদের মনোনীত নারী প্রার্থীদের তালিকা ইসিতে জমা দেবে। বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যার সমান প্রার্থী থাকলে তারা সাধারণত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। প্রয়োজন হলে সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, রোজার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় কমিশন। পাশাপাশি শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ঈদের পর অনুষ্ঠিত হবে।
