ভারতে গ্রেফতার হওয়া শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মব সংস্কৃতি বাংলাদেশে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, সংঘবদ্ধ কোনো ক্রিমিনাল আইনের বাইরে থাকবে না। এটা এ সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনগণের প্রত্যাশা। অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেও যাতে দেশের মানুষ স্বস্তিতে থাকে এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আমরা জনগণের জন্য স্বস্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারি। আমরা সারাদেশে যাতে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন বজায় রাখতে পারি সেজন্য আমাদের কর্মকাণ্ড চালু থাকবে এবং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, কক্সবাজার একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। সমুদ্র সৈকতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে এবং এই সৈকতকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তাই এখানে কোনো ধরনের ঝুপড়ি পলিথিন দোকান থাকতে পারবে না।
কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে আরও জনবল দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অটোরিকশা বা টমটমের সংখ্যা আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সীমার বাইরে নতুন কোনো যানবাহনের অনুমতি দেওয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না এবং ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বর্তমান সরকার। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং একই সাথে সারাদেশে অনলাইন জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার–৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, মাদক প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় কক্সবাজারে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এর আগে রোববার বিকেলে ২ দিনের সফরে জন্মভূমি কক্সবাজার সফরে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথম বারের মত কক্সবাজার সফর করেন তিনি। আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
