সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা লালবাগ থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত হলেও এটি কোনো হত্যা মামলা নয়।
এ বিষয়ে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তদন্ত কর্মকর্তা।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে যান। সেই সময় থেকে শিরীন শারমিনও জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। এমনকি ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, সরকার পতনের পর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেনা হেফাজতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সে সময় শিরীন শারমিন সেনানিবাসে ছিলেন বলে গুঞ্জন ওঠে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সেনাবাহিনী।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রংপুরে একটি হত্যা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত এক স্বর্ণকারিগরের ঘটনায় ওই মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পরদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদ ভেঙে দেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার পদ তাৎক্ষণিকভাবে শূন্য না হলেও, পরবর্তী স্পিকার নির্বাচনের আগেই ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
পরে তার পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতা, আদালতের মামলা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তিনি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত হননি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে আসেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরবর্তীতে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং টানা তিন মেয়াদে এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
