ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। এতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ১৯টি সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে ও পরে প্রায় দুই মাস পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সামগ্রিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশীজনদের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হয়েছে এবং এতে জনগণের আস্থা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে উদ্যোগ এবং নাগরিক পরিসর সক্রিয় হওয়ার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে ছয়টি অগ্রাধিকার সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের আইনি কাঠামো সংস্কার, নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার, ভোট গণনায় আরও স্বচ্ছতা এবং ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ সম্প্রসারণ।
ইইউ জানায়, নতুন অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির আওতায় এসব খাতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে তারা প্রস্তুত।
ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে। এ সময়ে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ২২৩ জন পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
