সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে: টিআইবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশে ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬টি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান

সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশে খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে একই সময়ে কিশোর গ্যাং, মাদক, সন্ত্রাস ও সাইবার অপরাধ দমনে সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও লক্ষ্য করা গেছে।

রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ ও এপ্রিলে দেশে ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৬টি।

টিআইবি বলছে, পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও সহিংস অপরাধ উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবেদনে গণপিটুনি ও মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দুই মাসে এ ধরনের ৬৯ থেকে ৮০টি ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত এবং ৭০ থেকে ১২৫ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। রাজধানীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশে কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের ১০০ দিন একদিকে সম্ভাবনাময় হলেও সুশাসন, জবাবদিহি ও দুর্নীতি দমনে ঘাটতি রয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন বা কার্যকর করতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রশাসন, ব্যাংক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে, যা সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে অভিযান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা জোরদার এবং কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

- Advertisement -

সার্বিক মূল্যায়নে টিআইবি বলেছে, সুশাসনের ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাব দূর না হলে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান গঠন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *