ভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলযোগে এসে অজ্ঞাত হামলাকারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর এভারকেয়ারে হস্তান্তর করা হয়।
শরীফ ওসমান বিন হাদি জুলাই আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে পরিচিতি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাদির প্রাথমিক শিক্ষা মাদ্রাসায়; তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে। একসময় সাইফুরস কোচিং সেন্টারে ইংরেজি পড়াতেন তিনি। সর্বশেষ ‘ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বরং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন ও একাধিক বই লিখেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’, যার ঘোষিত লক্ষ্য সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সংগঠনটির তৎপরতা ডাকসু নির্বাচনেও দৃশ্যমান হয়; শিবির নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনিম জুমা মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগবিরোধী তীব্র অবস্থানের জন্য হাদি বারবার আলোচনায় এসেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি “বিশ্বের জন্য নজির” বলে মন্তব্য করেছিলেন। বিএনপির রাজনীতি নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন, বলেন “পুরনো ধারায় চললে ক্ষমতায় এলে দুই বছরও টিকবে না।” সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।
এ বছরের মার্চে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষের পর হাদি উত্তেজিত বক্তব্যে জেলা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানালে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরে তিনি সেই গালিগালাজকে ‘মুক্তির মহাকাব্য’ বলে ব্যাখ্যা করেন এবং কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন।
গত নভেম্বর হাদি ফেসবুকে দাবি করেন, দেশি–বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার পরিবারকে হত্যার পাশাপাশি নারীদের ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ–সমর্থক একটি গোষ্ঠী তাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখছে, তবে তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না।
ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে হাদি নিয়মিত জনসংযোগ করছিলেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে লিফলেট বিলির কর্মসূচি শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার কথা থাকলেও এর মাঝেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ওসমান হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন, ঢামেক থেকে এভারকেয়ারে
