বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। তিনি দাবি করেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারত্ব’ ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ প্রয়োজন।
সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এ আবেদন জমা দেন আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন। আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার আওতাধীন কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দ্য ডেইলি সান, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভি ও বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোরের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, এসব গণমাধ্যম পেশাদার মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হয়ে ‘অপপ্রচারমূলক কার্যক্রমে’ জড়িত।
বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি দখল, আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজি, রাজউকের নকশা জালিয়াতি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এম সারওয়ার হোসেন বলেন, “এই পাঁচটি গণমাধ্যমের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে এসব মাধ্যমে ‘সমন্বিত অপপ্রচার’ চালানো হয়।
তবে তিনি গণমাধ্যমগুলো বন্ধের পক্ষে নন বলে জানান। তার ভাষ্য, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এগুলোকে পেশাদার ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় প্রেস কাউন্সিলের কার্যকর ক্ষমতা সীমিত। তাই প্রশাসনিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরের কথাও জানান এই আইনজীবী।
