স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এ বরাদ্দ দ্বিগুণের বেশি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠন টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তবে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি। কোভিড-১৯ মহামারি ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর ঘটনা সেই দুর্বলতারই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয়ে বিপুল ব্যয় হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি। ফলে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে এবং সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ধারা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক ধারায় রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি এবং ক্যানসার ও ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগের আগাম শনাক্তকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে এই বাড়তি বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে সেবার মানোন্নয়ন ও জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
